বিডি [হেকার] তায়েফ কান। (পর্ব-১)
এই হ্যাকিং কতোটা সহজ, কেনো তিনি হ্যাক করেন, কিভাবে করেন - এসব নিয়ে "[হেকার] তায়েফ কান, এর সাথে কথা বলেছিলেন উনারই এক রিপোর্টার ফ্যান।
যেভাবে শুরু
তিনি জানান, ক্লাস এইটে পড়ার সময় তার প্রথম পরিচয় হয় হ্যাকিং এর জগতের সাথে। তিনি জানান, একদিন বিকেলে গাছ তলায় বসে একা মনে গল্প করতে, করতে তিনি নিজের মধ্যে আবিষ্কার করেন [হেকিন] হ্যাকিং।
পরে ফেসবুক জগতের মাধ্যমেই অন্যান্য হ্যাকারদের সাথে ধীরে ধীরে তার পরিচয় ঘটতে শুরু করে।
তিনি জানান- হ্যাকাররা ইন্টারনেটের যে অন্ধকার জগতে ঘোরাফেরা করেন তাকে বলা হয় ডিপ ওয়েব। সেখানেই সাইবার অপরাধীদের আনাগোনা।
এবং তিনি বলেন -
১ঃ- "বাংলাদেশের যদি ১০০% মানুষ ফেসবুক ইউজ করে, এদের মধ্যে ৮০% মানুষ আমাকে ব্লক মেরে রাখে।
২ঃ - "আমি জানি পৃথিবীর এক ভাগ স্থল আর তিন ভাগ জল। এবং সেই পানির নিচে কি আছে সেটাও কেউ জানে না। ডিপ ওয়েব সেরকমই একটি জগৎ।"
৩ঃ- "গুগল, আমাজন এগুলো হচ্ছে স্থলভাগের মতো। আর ডিপ ওয়েব হচ্ছে পানির নিচে গভীর অন্ধকার জগতের মতো।"
অন্ধকার জগৎ "ডিপ ওয়েব" সম্পর্কে ধারণা দেন এই হেকার তায়েফ কান।
তিনি জানান, বিভিন্ন দেশে হ্যাকিং হচ্ছে - এরকম খবরাখবর দেখে তিনি নিজেও একদিন হ্যাকিং করার ব্যাপারে উৎসাহিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন যে,
৪ঃ- "প্রথমে আমার মনে হলো দেখি তো জিনিসটা কি। তখন আমি গুগলে সার্চ করতে শুরু করি। জানতে চেষ্টা করি যে হ্যাকারদের ফোরাম কোথায়। এসবের কিছুটা তথ্য সেখানে পাওয়াও যায়।"
[হেকিন] এর পর তুলা চারটি দূর্লভ ছবি যা তিনি সাক্ষাৎ কারী কে দিয়েছিলেন।
৫ঃ- "সেখান থেকেই আমি ডিপ ওয়েবের সন্ধান পাই। একটি ফোরামের কথা জানতে পারি। তখন এনিয়ে কিছুটা পড়াশোনা করার পর আমার চোখ কপালে উঠে যায়। আমি সিদ্ধান্ত নেই যে এই রোমাঞ্চকর জগতেই আমাকে থাকতে হবে।"
তখনই তিনি শিখে যান ডিপ ওয়েবে কিভাবে লগ ইন করতে হয়, কিভাবে সার্চ করতে হয়, তারপর শেখেন কিভাবে অন্যের কম্পিউটারে হানা দেওয়া যায় এবং ফেসবুকে কিভাবে ফেইক আইডি খুলে অন্যের আইডি ক্লোন করে এবং রিপোর্ট করে আইডি ডিজাবল করা যায়, ইত্যাদি ইত্যাদি।
"ফেসবুক আইডিকে ডিজাবল করাকে তিনি এক ধরণের [হেকিন] বলে দাবি করেন।
তারপর ওই ডিপ ওয়েবেই এক এক করে আরো অনেক হ্যাকারের সাথে তার পরিচয় ঘটতে শুরু করে।
তিনি জানান, তারপর তিনি নিজে বিশ্বের সব চেয়ে বড় বড় [হেকিন] এ ভূমিকা পালন করেন, যা আমরা বাঙালির জন্য গর্বের ব্যাপার।
কেন আমেরিকার ট্রাস্ট ব্যাংক হ্যাক করলে প্রশ্ন করলেন তিনি বলেন...
তিনি জানান, কখনো কখনো টানা তিন থেকে চারদিনও ঘরের দরজা বন্ধ করে অন্যের আইডিতে রিপোর্ট করতে থাকেন যতক্ষণ না আইডি টা ডিজেবল হচ্ছে।
৬ঃ- "কেউ যদি বলে যে ভাই আমি হ্যাকিং শিখতে চাই সে জীবনেও কিছু করতে পারবে না। কিন্তু যদি নিজের আগ্রহ থাকে তাহলে সে নিজে নিজেই আস্তে আস্তে একদিন অনেক কিছুই শিখে ফেলবে।"
এই উক্তিটি তিনি উনার একজন ফ্যান এর কাছে দিয়েছিলেন।
তিনি অবশ্য দাবি করেছেন, কারো ব্যক্তিগত কম্পিউটারে তিনি কখনও আক্রমণ করেন নি। যা কিছু করেছেন তার সবটাই ছিলো সাইবার যুদ্ধের অংশ।
উনার এই উক্ত কমেন্ট টি দেখার পর অনেকে আর জীবনে ফেসবুক খোলার সাহস করে নি..
তিনি বলেন "অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আমি ফেসবুক [হেক] করি না, এটি শুধু আমার শখ মাত্র।
৭ঃ- "অবৈধ কিছু আমি করিনি। শুধু কিছু তথ্যের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে হয়তো তার ভেতরে ঢুকে পড়েছি। তারপর সেখান থেকে একসময় চুপচাপ বেরিয়েও আসতাম,"
-বলেন তিনি।
তার মতে, [হেকাররা] আসলে খারাপ না।
৮ঃ- "যারা হ্যাকার তারা হয়তো কোনো একটা ওয়েবসাইট হ্যাক করবে, সাইবার ওয়ার করবে দেশের পক্ষে। কিন্তু যারা ক্র্যাকার তারা বিভিন্ন দেশের ব্যাঙ্কে আক্রমণ করে, ক্রেডিট কার্ড থেকে তথ্য চুরি করে অর্থ সরিয়ে নেয়। ব্যক্তিগত কম্পিউটারে আক্রমণ করে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবী করে।"
তিনি জানান, পাকিস্তান ছাড়াও তিনি ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং ভারতের সাথেও সাইবার যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
তিনি জানান, ইউরোপ অ্যামেরিকার সরকারি নিরাপদ ওয়েবসাইটগুলোতে তিনি ঢুকেছিলেন। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন ইসরায়েলি ওয়েবসাইট হ্যাক করার কথা।
তিনি বলেন উনাকে কেউ আবাল বললে উনার উউচ্চস্বরে খুব-খুব হাসি পায় এবং তিনি হাসেন!
-তিনি বলেন
৯ঃ- "ইসরায়েলে একটি ওয়েবসাইট হ্যাক হলেই সেটা আন্তর্জাতিক খবর হয়। কারণ দেশটির সাইবার নিরাপত্তা খুবই কঠোর। কিন্তু এমন দিন গেছে যে আমি একা একদিনেই ৪০ থেকে ৫০টি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছি।"
তিনি জানান, সারা বিশ্বের অনেক হ্যাকাররা এরকম কয়েক হাজার গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, তার কাছ থেকে ধারণা নিয়ে।
"রাশিয়ায় উনার সকল সাবেক [হেকার] ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দেখা করতে যাবার সময় [হেকার] তায়েফ কানের তুলা একটি ছবি, যা পরপরই ইন্টারনেট জগতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল।
যাই হোক,
আমাদেরও সৌভাগ্য হয়েছিল ওই [হেকার] তায়েফ কানের হাতে আইডি ডিজেবল হতে,
পর - পর দিন রাত রিপোর্ট করে আইডি [ডিপজল] ডিজেবল করে ছিলেন তিনি যার মধ্যে,
১- Md Sourav Ahmed (আমার আইডি)
২- Mollik Sirjub Miah
৩- Zisan Saber
৪- MK Fahiim Muqtadir
৫- Md Sofikul
৬- Syed Tambir
৭- Zain Talha সহ আরো হাজার - হাজার আইডি উনি ডিজেবল করেন।
রিপোর্টার এটি উনাকে দেখানো পর দুঃখের খবর তিনি জানান-
"দুই দুই বার (Md Sourav Ahmed) -[আমার আইডি] ও (Mollik Sirjub Miah) আইডি ডিজেবল করার পরও তারা তিন মাস কষ্ট করে তাদের আইডি ঠিক করে ফেলে, এখন এই দুই জনের আইডি আবার ডিজাবল করার পরিকল্পনা করছি।"
শ্রদ্ধেয় "[হেকার] তায়েফ কান" এর আত্মকাহিনী শুনে আমারাও এখন [হেকার] তায়েফ কানের ফ্যান।
উনার একজন ফ্যান হিসেবে নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ব হয়। নিচে উনার একটি ফ্যান পেজ এর লিংক দেওয়া হলো, দয়া করে কেউ বাঝে মন্তব্য করবেন না , নয়ত আপনাকেও হতে হবে
[হেকার] তায়েফ কানের শিকার।
__________________________________







Comments
Post a Comment